সেবা ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরে ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দেশে জ্বালানির মজুত ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
![]() |
| চট্টগ্রাম বন্দরে ১৪ জ্বালানি জাহাজের অগ্রাধিকার, মজুত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক |
দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে আসা এবং বর্তমানে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ১৪টি জ্বালানি বহনকারী জাহাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বার্থিং সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এই নৌযানগুলোকে দ্রুত জেটিতে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান থেকে রওনা হওয়া পাঁচটি এলএনজি এবং দুটি এলপিজি জাহাজসহ সর্বমোট চৌদ্দটি নৌযান এই মুহূর্তে নোঙর করা অবস্থায় ও সমুদ্রপথে রয়েছে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে নিয়মিতভাবে ফার্নেস অয়েল এবং ডিজেল নিয়ে কার্গো জাহাজগুলোও দেশের বন্দরে প্রবেশ করছে।
সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, রবিবার শেষভাগে বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাংকারিং নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। ওই বৈঠকে দেশের জ্বালানি প্রবাহকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সকল খাতের সম্মিলিত চাহিদা নির্ধারণ করার পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজগুলোকে বন্দরে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বিপিসি, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড এবং শিপিং খাতের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে বন্দর সচিব জানান, একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ আসার পরও বন্দরে কোনো ধরনের জট তৈরি হয়নি এবং সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বেশ সুশৃঙ্খলভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। উক্ত সমন্বয় সভায় আরও জানানো হয় যে, দেশের বন্দরে আসা এই জাহাজগুলো মূলত মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে থাকে, যার কারণে বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব বাংলাদেশের ওপর খুব একটা পড়ছে না।
কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, তেল ও গ্যাস বহনকারী এই জাহাজগুলোকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত জেটিতে ভেড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে না। বৈঠকে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে দেশে জ্বালানির মজুত অত্যন্ত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা তাদের হাতে মজুদ আছে।
মূলত শিল্প কারখানা এবং নৌ-বাণিজ্য খাতের প্রয়োজনীয় জ্বালানি মেটাতে এই মুহূর্তে দেশে বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের লজিস্টিক সহায়তা এবং সামগ্রিক অপারেশনাল কাজগুলো আগের মতোই বাধাহীনভাবে চলছে। এছাড়া সমুদ্রের বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকা এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাছে বাড়তি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
জাতীয়- নিয়ে আরও পড়ুন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।