কলমের আঁচড়ে যখন রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত: এক এগারোর কুশীলব ও মিডিয়া ট্রায়ালের বিচার কতদূর?
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যা ‘ওয়ান ইলেভেন’ বা এক এগারো নামে পরিচিত। সে সময় দেশের রাজনীতি ‘পরিষ্কার’ করার নাম করে যে খেলা শুরু হয়েছিল, তার ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে রাষ্ট্র।
আজ প্রায় দুই দশক পর সেই তথাকথিত কুশীলবরা একে একে আইনের মুখোমুখি হতে শুরু করেছেন। তবে এই আইনি প্রক্রিয়ার সমান্তরালে একটি প্রশ্ন জনমনে প্রবল হয়ে উঠছে—যারা এই গেম প্ল্যান বা ছক তৈরি করেছিল, তাদের বিচার কবে হবে? বিশেষ করে সেই সময়ে প্রভাব বিস্তারকারী নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা এখন বড় ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রে।
অভিযোগ উঠেছে, সে সময় ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টার’-এর মতো প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো কেবল সংবাদ প্রকাশ করেনি, বরং একটি বিশেষ রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল। সমালোচকদের দাবি, এই দুটি পত্রিকা একের পর এক ‘ম্যানুফ্যাকচারড’ বা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়েছিল।
![]() |
| এক এগারোর নেপথ্য কারিগর ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা মাহফুজ আনাম-মতিউর রহমান কি বিচারের ঊর্ধ্বে |
এই বিতর্কের পালে হাওয়া লাগে যখন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম নিজেই একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে স্বীকার করেন যে, তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর সরবরাহ করা অপ্রমাণিত তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করা ছিল তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের এক ‘বিরাট ভুল’।
তিনি একে ‘ব্যাড এডিটোরিয়াল জাজমেন্ট’ বা ভুল সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। এই স্বীকারোক্তির পর সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে—গণমাধ্যম কি তবে সে সময় একটি প্রোপাগান্ডা মেশিনে পরিণত হয়েছিল?
সমালোচকদের মতে, মিডিয়া ট্রায়াল বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করার এই প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। যখন নিজেদের ঘনিষ্ঠ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিতর্কে জড়ায়, তখন এই পত্রিকাগুলোর রহস্যজনক নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) প্রকল্পের বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ এবং ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবালের মতো বিতর্কিত ভূমিকার কথা বলা যেতে পারে। এই বিষয়গুলো নিয়ে গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বদলে সিলেক্টিভ বা বাছাইকৃত সাংবাদিকতার অভিযোগ উঠছে বারবার।
আজকের বাংলাদেশে যখন এক এগারোর কুশীলবদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তখন প্রশ্ন উঠছে—যারা কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে একজন মানুষকে জনসমক্ষে অপরাধী বানিয়েছে, সেই সম্পাদকদের দায়বদ্ধতা কোথায়? মতিউর রহমান কিংবা মাহফুজ আনাম কি এই বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবেন? স্বাধীন সাংবাদিকতার নামে সিলেক্টিভ ন্যারেটিভ তৈরির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা গণতন্ত্রের জন্য কতটা টেকসই, তা ভাবার সময় এসেছে। সত্য জানার অধিকার কেবল সাংবাদিকদের নয়, সাধারণ দর্শকদেরও রয়েছে। এক এগারোর পূর্ণাঙ্গ বিচারে গণমাধ্যমের বিতর্কিত ভূমিকার বিচার এখন সময়ের দাবি।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।