![]() |
| জামালপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সনাক ও টিআইবি’র মানববন্ধন: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবি |
জামালপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সনাক ও টিআইবি’র মানববন্ধন: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান
‘পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন, এখনই সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপের’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রবিবার (৭ জুন) দুপুরে শহরের ফৌজদারী মোড়ে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), জামালপুর এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি শামীমা খান। এতে পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিক আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জামালপুর শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাসুম আলম খান, সনাক সদস্য মনোয়ারা খানম, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) জামালপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, জামালপুর পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জামালপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক।
এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী মো. শফিকুল ইসলাম, সনাক সদস্য আসমাউল আসিফ এবং ইয়েস গ্রুপের সহ-দলনেতা রত্ন বারইসহ স্থানীয় পরিবেশবাদী নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, "পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা সংক্রান্ত আইন, নীতি ও পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা সাধারণ জনগোষ্ঠীর অভিযোজন ও টিকে থাকার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সাথে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা এখন সময়ের দাবি।" তারা নদী, নালা, খাল-বিল ও জলাভূমি দখল এবং নির্বিচারে বন উজাড় বন্ধের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল মানুষের প্রাকৃতিক সম্পদকেন্দ্রিক অভিযোজনের সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেন।
বক্তারা আরও বলেন, "প্লাস্টিক দূষণসহ অকার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। বিশেষ করে দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ক্ষতিকর ‘ই-বর্জ্য’ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত একটি ‘দুর্যোগকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রটোকল’ দ্রুত প্রস্তুত করা প্রয়োজন।"
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষের কিছুটা উদাসীনতার কারণেই স্থানীয় নদী, খাল ও বিলগুলো প্রতিনিয়ত দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে। পরিবেশের এই বিরূপ প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আইনি জটিলতা ও হয়রানির ভয়ে মামলা করতে পারেন না।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়ছে উল্লেখ করে বক্তারা পরিবেশ দূষণ রোধ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ও বিশ্বনেতাদের এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।