![]() |
| কাজিপুরে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু |
কাজিপুরে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বন্যার পানিতে মাছ ধরার জন্য পাতা জাল ছাড়াতে গিয়ে সাপের কামড়ে হযরত আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) সকালে সাপে কাটার পর অবহেলা ও ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করার কারণে বিষ ছড়িয়ে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
নিহত হযরত আলী উপজেলার ৯ নম্বর নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের পানাগাড়ী বাঘগাড়ি পাড়ার নুর হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে হযরত আলী তাঁর বাড়ির পাশের বন্যার জমে থাকা পানিতে চায়না রিং জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। জাল পেতে কিছুক্ষণ পর তা পানি থেকে তুলতে গেলে তিনি জালের ভেতরে একটি সাপ দেখতে পান। পরে অসাবধানতাবশত হাত দিয়ে জাল থেকে সাপটি ছাড়ানোর সময় সাপটি তাঁকে দংশন করে।
প্রতিবেশী আব্দুস সালাম জানান, সাপটি বিষহীন ধোড়া বা দাঁড়াশ সাপ ভেবে কামড় খাওয়ার পরও বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি হযরত আলী। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও বিষক্রিয়া শুরু হলে তিনি প্রথমে ভুলবশত স্থানীয় এক ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁকের জন্য যান। এতে প্রচুর সময় নষ্ট হয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে স্বজনেরা তাঁকে যমুনা নদী পার করে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বজনেরা তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেন। সেখানে বেলা আড়াইটার দিকে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সাপটির পরিচয় নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এটিকে দাঁড়াশ সাপ দাবি করলেও, লক্ষণ দেখে অনেকের ধারণা এটি বিষধর রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো চিকিৎসক বা বন বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাপের প্রজাতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. রাসেল বলেন, “সাপে কাটার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ততক্ষণে বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করি, তবে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় রেফার্ড করা হয়।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “সাপে কাটলে ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে অবহেলা ছাড়া দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে আসলে এন্টিভেনমের মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।”







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।