![]() |
| বিশেষ ছোটগল্প: ঘুড়ি পাগল রাজু — মোঃ সৈয়দুল ইসলাম |
বিশেষ ছোটগল্প: ঘুড়ি পাগল রাজু — মোঃ সৈয়দুল ইসলাম
শহরের অলিগলিতে বেড়ে ওঠা এক কিশোরের নাম রাজু। রাজুর বয়স আট বছর। রাজু শহরের একটি ইস্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। শহরের অন্যান্য ছেলেদের মতো তারও ঘুড়ি উড়ানোর খুব শখ।
একদিন রাজুর বাবা সাবলু মিয়া ছেলের জন্য বাজার থেকে একটি রঙিন ঘুড়ি কিনে আনলেন। পরের দিন রাজু ঘুড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়। শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে রাজুর শখের ঘুড়িটি বিদ্যুতের তারের সাথে প্যাচ খেয়ে ছিঁড়ে যায়। রাজু কাঁদতে কাঁদতে বাসায় যায়। বাসায় এলে রাজুর মা সখিনা বিবি জিজ্ঞেস করলেন- তুমি কাঁদছো কেন বাবা? রাজু কেঁদে কেঁদে বলল- আমার ঘুড়িটি বিদ্যুতের তারের সাথে প্যাচ খেয়ে ছিঁড়ে গেছে। তাই আমি কাঁদছি মা। তখন সখিনা বিবি ছেলেকে বললেন, তোমার বাবা বাসায় এলে আরেকটি নতুন ঘুড়ি কিনে দিতে বলবো। রাতে রাজুর বাবা বাসায় আসার পর সখিনা বিবি ঘুড়ির বিষয়ে কথা বললেন। পরের দিন, সাবলু মিয়া ছেলের জন্য আরেকটি নতুন ঘুড়ি কিনে আনলেন। রাজু ঘুড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলে আগের দিনের মতো ঘুড়িটি ছিঁড়ে যায়। শহরের অবস্থাশালী বাবার ছেলেরা তাদের নিজ নিজ বিল্ডিংয়ের ছাদে উঠে ঘুড়ি ওড়ায়। তাদের ঘুড়ি নীল আকাশে স্বাধীনভাবে ওড়ে। তারা খুবই আনন্দ পায়।
এদিকে রাজুর বাবা একজন রিকশাচালক। ছেলের লেখাপড়ার খরচ, বাসা ভাড়া এবং সংসার খরচ। সবমিলিয়ে মাসে রাজুর বাবাকে মেলা টাকা গুনতে হয়। রাজুদের নিজস্ব কোন বাসা বা বিল্ডিং নেই। তাই রাজুর শখের ঘুড়ি প্রতিনিয়ত এভাবেই ছিঁড়ে যায়।
একদিন রাজু রাগে ক্ষোভে তার মাকে বললো, মা আমি আর শহরে থাকবো না। গ্রামে চলে যাবো। তখন সখিনা বিবি বললেন- তুমি কার কাছে যাবে? আমরা সবাই শহরে থাকি। গ্রামের বাড়িতে আমাদের কেউ নেই। রাজু বললো, আমি নানার বাড়িতে যাবো। সেখানে গিয়ে ইস্কুলে ভর্তি হবো। খোলা আকাশের নীচে খেলাধুলা করবো। ইচ্ছে মতো ঘুড়ি উড়াবো। এই কথা শোনার পর সখিনা বিবি সাবলু মিয়াকে বললেন, রাজু শহরে থাকতে চায় না। সে গ্রামে তার নানার বাড়িতে চলে যেতে চায়। সাবলু মিয়া চিন্তা ভাবনা করে রাজি হয়ে গেলেন এবং ছেলেকে তার নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন। রাজু নানার বাড়ি গিয়ে খুবই খুশি। কারণ, মামাতো ভাই বোনেরা আছে। মুক্ত আকাশ আছে। ঘুড়ি উড়ানোর জন্য বড় বড় মাঠও আছে। রাজুর নানা বাড়ির পাশে একটি বাজার আছে। বাজারটি অনেক বড়ো। প্রতি শুক্রবার বাজার বসে। বাজারে হাজার হাজার লোক আসে। জেলা শহর থেকেও ব্যবসাহিরা ব্যবসা করতে এই বাজারে আসে। বাজারের মধ্যখানে প্রতি শুক্রবার সার্কাস বসে। এলাকার ছেলেমেয়েরা সার্কাস দেখতে বাজারে যায়। রাজুও তার বড়ো মামার সাথে সার্কাস দেখতে বাজারে গেলো। সার্কাস দেখার পর রাজু হঠাৎ দেখতে পেল বাজারে সাত রঙা ঘুড়ি নিয়ে এক লোক বসে আছে। রাজু তার মামাকে একটি ঘুড়ি কিনে দিতে বললো। বলতে দেরি হলো কিন্তু ঘুড়ি কিনে দিতে দেরি হলো না। রাজু সাত রঙা ঘুড়ি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। তার মাকে ফোন দিয়ে বললো- মা' বড়ো মামা আমাকে একটা ঘুড়ি কিনে দিয়েছেন। ঘুড়িটি সাত রঙা বড়ো ঘুড়ি। এ কথা শুনে তার মা খুব খুশি। মায়ের সাথে কথা বলার পর রাজু ঘুড়ি নিয়ে মাঠে চলে গেলো। মাঠে পুবাল বাতাস। রাজু মনের আনন্দে মুক্ত আকাশে তার শখের ঘুড়িটি উড়াতে লাগলো। সাত রঙা ঘুড়ি উড়তে দেখে এলাকার লোকজন ছুটে এলো। তাঁরা ঘুড়িটি দেখে সবাই খুশি হলো। আর এভাবেই রাজু তাঁর শখের ঘুড়িটি প্রতিদিন নীল আকাশের বুকে উড়াতে থাকলো।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।