![]() |
| রৌমারীতে সমাজকল্যাণ সমিতির জমিতে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে কোটি টাকার ভবন ও রাস্তা |
রৌমারীতে সমাজকল্যাণ সমিতির জমিতে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে কোটি টাকার ভবন ও রাস্তা
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গয়টাপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতির ওয়াফকৃত জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে অন্যত্রে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে সমিতির সাবেক সভাপতি রিয়াজুল হক ও হায়দার আলীর বিরুদ্ধে। ঝুকিতে রয়েছে গয়টাপাড়া গ্রামের কোটি টাকার রাস্তা ও সমিতির নামে পাঁকা ভবন। এনিয়ে উভয় পক্ষে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন জেলাা সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালক বরাবর। বুধবার (২ সেপ্টেবর) উভয়পক্ষকে একটি নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, ১৯৮৫ সালে গয়টাপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতিটি স্থাপিত হয়। সমিতিটি পরিচালনা করছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সাত্তার। ওই সমিতির উদ্যোগে দীর্ঘদিন ভেজষ চিকিৎসা দেওয়া হতো। যা এলাকার দুঃস্ত-অসহায় মানুষের অনেক উপকার হতো। সমিতির সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুর পর জমি দাতাদের মধ্যে শুরু হয় অন্তর দ্বন্দ। ২০২৪ সালে সমিতির কমিটিটির মেয়াদ শেষ হয়। তখন থেকেই সাবেক সভাপতি রিয়াজুল হক ও হায়দার আলীর নেতৃত্বে জোরপূর্বক সমিতির কিছু অংশ নদীতে থাকা জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মসজিদের দোহাই দিয়ে বালু উত্তোলন করে অন্যত্রে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন। এছাড়াও সমিতির নামে চার একর জমি দাতা সদস্যরা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন প্রজাতির বড় গাছ কেটে নিয়েছেন। অপর দিকে ওই সমিতির ঘরে বসে মাঝে মধ্যে সমিতির কিছু অসাদু ব্যক্তি গাঁজা সেবন ও বিক্রি করার অভিযোগেও ওঠে। এর পাশাপাশি রিয়াজুল হককে সভাপতি করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরে। এদের মধ্যে কয়েকজন মাদকসেবি রয়েছেন। এসব লুটতরাজে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার এর পুত্র সুরুজ মিয়াগং বাধা দিতে গেলে তাদেরকে ভয়ভিতি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এঘটনাকে কেন্দ্র করে সুরুজ মিয়া উপজেলা সমাজসেবা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা পরিচালক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে চলতিমাসে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা করা হয়। এসময় সভার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাত দিনের মধ্যে তদস্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন সমাজসেবা কমর্কতাকে।
এব্যাপারে হায়দার আলী ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বালু বিক্রির টাকা দিয়ে মসজিদের কাজ করা হবে।
সাবেক সভাপতি রিয়াজুল হক বলেন, মাটি বিক্রি করা হয়েছে মসজিদের জন্য। দু’একজন মাদকসেবনকারি ছিল তাদেরকে সমিতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ডা. মোঃ গোলাম সারোয়ার বলেন, সমিতির উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ও প্রামাণাদি নিয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসান বলেন, জানার পর অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছে এবং সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।