হঠাত্ করে পিঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি অযৌক্তিক:টিসিবি চেয়ারম্যান

S M Ashraful Azom
দেশে পিঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই, বরং উদ্বৃত্ত রয়েছে। আমাদের দেশে প্রতি বছর পিঁয়াজের চাহিদা কমবেশি ২১ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর দেশেই উত্পন্ন হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে আরো ৩ লাখ টন পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে। দেশে যে পরিমাণ পিঁয়াজ প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি পরিমাণ পিঁয়াজ এসে গেছে।
 
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এর (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ.কে.এম ইকবাল গতকাল সোমবার ইত্তেফাককে উপরোক্ত কথা বলেন। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মনিটরিং সেলের কর্মকর্তাদের সাথে টিসিবি চেয়ারম্যান আজ মঙ্গলবার পিঁয়াজ বিপণন ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক করবেন।
 
পিঁয়াজের হঠাত্ করে মূল্য বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে টিসিবি চেয়ারম্যান ইত্তেফাককে আরো বলেন, পিঁয়াজ বাংলাদেশের মানুষের জন্য এসেনশিয়াল ভোগ্যপণ্য নয়। যেখানে দেশীয় চাহিদার তুলনায় পিঁয়াজ উদ্বৃত্ত আছে সেখানে যারা পিঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করেছে তারা কয়েকদিন পর এসব পিঁয়াজ বাজারে ছেড়ে অর্ধেক মূল্যও পাবে না। পিঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাজার থেকে পিঁয়াজ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেবে। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও পিঁয়াজ ব্যবহার কমিয়ে দেবে। মোদ্দা কথা, মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশে প্রতিদিন কয়েক হাজার টন পিঁয়াজের ব্যবহার কমে যাবে। টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, তিনি আজ উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিম্ন আয়ের জনসাধারণের জন্য কম মূল্যে পিঁয়াজ বিক্রিসহ বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করবেন।
 
টিসিবি চেয়ারম্যান আরো জানান, নানা কারণে সাম্প্রতিক সময়ে পিঁয়াজের দাম বিশ্ববাজারে ৪/৫ গুণ বেড়ে গেলেও সরকার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এতোদিন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় বাজার স্থিতিশীল রেখেছেন। এদিকে ভারতে প্রাকৃতিক কারণে ফসলের মাঠেই পিঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সে দেশের সরকার পিঁয়াজ রপ্তানি কমিয়েছেন এবং নতুন রপ্তানি মূল্যও নির্ধারণ করেছেন; কিন্তু এতে বাংলাদেশের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
 
এদিকে কদিন ধরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি এবং খুচরা বাজারে হঠাত্ করে পিঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। খাতুনগঞ্জের পিঁয়াজের কয়েকজন আড়তদার এজন্য বাংলাদেশের বেনাপোল কেন্দ্রিক এবং ভারতের পিঁয়াজের ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ‘থার্ড পার্টি’র কারসাজিকে দায়ী করেন। তারা বলেন, এটা কৃত্রিম সংকট।
 
খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানান, সোমবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ডাল, পিঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা, নিম্নমানের পিঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা। আড়তদাররা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পিঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা কমে আসবে। কারণ পিঁয়াজ পচনশীল পণ্য। এটা বেশি দিন মজুদ করে রাখা যায় না।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top