নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দল।
জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি এখন সময়ের দাবি। ২০দল মনে করে নির্বাচিত ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকারই এসব নিশ্চিত করতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।
সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ২০ দল শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
বুধবার রাতে দীর্ঘদিন পর জোটের শরিকদের নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের আগে জোটের মহাসচিবদের সঙ্গে নজরুল ইসলাম খান সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “সত্যিকার গণতন্ত্র ও নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সফলতা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। সেই লক্ষ্যে ২০ দল শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এ সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।”
২০দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানাতে ষড়যন্ত্র করছে।
নজরুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাবস্থায়ও বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর জন্য প্রচার ও অপচেষ্টা চালিয়েছে। আর এখন ওই জুজুর ভয় দেখিয়ে মুক্ত চিন্তার বিশ্বের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে।এজন্য দেশে গুম, খুন, নারী নির্যাতন ব্লগার হত্যার মতো ঘটনা নির্বিঘ্নে চলছে। এসবের বিচার হচ্ছে না।”
সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে সরকারের সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকারও আহ্বান জানানো হয়।
জোটের ভাঙনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, টানা ৩ মাস বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেজন্য দীর্ঘদিন ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয়নি। তবে ২০ দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।
তাই সরকার শত চেষ্টা করেও জোট ভাঙতে পারেনি। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তারা ২০ দলীয় জোটের কোন দলকে নিতে পারেনি।
এমনকি ২০ দলের কোন শীর্ষ নেতাকেও জোট থেকে নিতে পারেনি। জোট অটুট অক্ষুন্ন রয়েছে, থাকবে। অবশ্যই আন্দোলন সংগ্রামে রয়েছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চাই।
আন্দোলন সংগ্রামের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যখনই কোন সভা-সমাবেশ মানববন্ধন করতে চাই তখন আমাদেরকে অস্ত্রধারী সরকারি বাহিনীর মোকাবেলা হতে হয়। আমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই। তাই আমাদেরকে জনগণের কাছে ফিরে আসতে হয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে আইয়ুব খান ও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বাধা দেয়া হয়েছে। কিন্ত জনগণ একটা সময় ফুঁসে উঠে। অপেক্ষা করুন, জনগণ অস্ত্র ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তখন অস্ত্র ও সন্ত্রাস পরাজিত হবে। জনগণ বিজয়ী হবে।
খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে তিনি ভালো জানেন কবে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কর্মপরিষদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম এম আমিনুল রহমান, বিজিপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব আবদুল মতিন সাঈদ, এনপিপির মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, লেবার পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব বাবু রহমান কৃষ্ণ সাহা, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।
