সিপিবির আলোচনা সভায় বক্তরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল: সিপিবি

S M Ashraful Azom
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি'র মনে করেন বঙ্গবন্ধু হত্যাণ্ডের সাথে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র জড়িত। তাই ১৫ আগস্টের মতো আরেকটা ট্রাজেডি এড়াতে হত্যাকাণ্ডেরর সাথে জড়িত নিজ দলের ও অন্যান্য দেশি-বিদেশি শক্তির মুখোশ উন্মোচন করা দরকার।
 
শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধু আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসাবে গড়ে উঠেছিলেন। দেশের কমিউনিস্ট, প্রগতিশীল ও গণআন্দোলনগুলো শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু করেছে।'
 
সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনোর সভাপতিত্বে  ও আহসান হাবীব লাভলুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, শ্রমিক নেতা মঞ্জুর মঈন, ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগরের সভাপতি বিধান বিশ্বাস।
 
মনজুরুল আহসান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কোনো ধরনের টু শব্দটি হয়নি। আমরাই তখন প্রথমে ওই বছরের ৪ নভেম্বর রাজপথে প্রতিবাদ করেছিলাম। এসময় আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েও তাদের কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।
 
বঙ্গবন্ধু যে সবসময় প্রগতিশীলতার দিকে অগ্রসরমান ছিলেন একথা বলতে গিয়ে মনজুর আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনোই একটি জায়গায় স্থির ছিলেন না। তিনি সব সময়েই প্রগতিশীলতার দিকে অগ্রসর ছিলেন। তিনি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন।
 
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেমন শেখ হাসিনর চারদিকে চাটুকাররা আছে,ঠিক স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও বঙ্গবন্ধুর চারদিকের চাটুকাররা তাকে ডুবিয়েছে। এবং এই সুযোগেই দেশি-বিদেশি শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সাহস পেয়েছিল।
 
সভাপতির বক্তব্যে হায়দার আকবর খান রনো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শুধু একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়। একটি আদর্শকে হত্যা। তাকে  ও তার পরিবারকে হত্যার মধ্যে দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চার নীতিকে হত্যা করা হয়েছিল।
 
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, কমিউনিস্টদের সাথে ঐক্য, সমঝোতা এবং আন্দোলন বঙ্গবন্ধুর সাফল্যের চাবিকাঠি ছিল। দুঃখের বিষয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের যে আদর্শ ও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন তা বাস্তবায়ন করার জন্য আওয়ামী লীগ উপযুক্ত দল ছিলনা। তিনি তার লক্ষ্য প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করে বাকশাল গঠন করেছিলেন। তারপরেই দেশি-বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
 
বক্তারা আরও বলেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার আংশিকভাবে হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে তার নিজ দলসহ বিভিন্ন দল ও দেশি-বিদেশি শক্তি জড়িত ছিল। তাদের মুখোশ উন্মোচন হওয়া দরকার। কমিউনিস্ট পার্টি বারবার এজন্য একটি কমিশন গঠনের দাবি করেছে।
 
সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধুসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top