‘মাকে আর মেরো না আব্বু, মরে যাবে ! তখন কাকে মা বলে ডাকবো?’ মাকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখে এ ভাবে মিনতি করলেও এক পাষণ্ড পিতার মন গলাতে পারেনি শিশু দুই ভাই-বোন।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা এক গৃহবধুর জীবন প্রদীপ এখন নিভু নিভু করছে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে । জেলা শহরের বিশ্বাসপাড়া মহল্লায় রবিবার বিকালে স্ত্রীকে নির্যাতনের এ ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের হোসেন আলী কাজী (৩৫) পাঁচ বছর আগে ধামইরহাট উপজেলার সাপাহার গ্রামের আমিনা বেগম (২৫) কে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের কারনে পরিবার মেনে না নিলে বিশ্বাসপাড়ার আব্দুর রশিদের বাসায় ভাড়া নিয়ে তারা সংসার শুরু করেন।
আগের স্ত্রীও নির্যাতনের কারনে নাসিম (৭) নামে একমাত্র সন্তানকে রেখে চলে যায়। পরে আমিনা বেগমের ঘরে জন্ম নেয় নুসরাত (৩)। অসহায় আমিনা বেগমের পৃথিবীতে অসুস্থ্য মা ছাড়া কেউ নেই বলে জানান প্রতিবেশী চান্দা বেগম। নাসিম ও নুসরাতকে নিয়ে সংসার করলেও শ্বশুর বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত স্বমী হোসেন আলী।
টাকা না পেলে প্রায় মারপিট করা হতো বলে জানান প্রতিবেশী সাজেদা বেগম। মাকে নির্যাতনের সময় নাসিম ও নুসরাত কেঁদে কেঁদে পিতা হোসেন আলীকে মিনতি করে বলে ” মাকে আর মেরো না আব্বু, মরে যাবে ! তখন কাকে মা বলে ডাকবো?’ কিন্তু এতেও পাষণ্ড পিতার মন গলে না।
নির্যাতনের ধারাবহিকতায় আজ রবিবার সকাল থেকে থেমে থেমে চলে নির্যাতন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলেও দরজা বন্ধ থাকায় কেউ সাহায্য করতে পারেননি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বেলা ২টায় ঘরের মধ্যে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না আটকে গলায় ফাঁস দেন আমিনা।
কিন্তু ফাঁস ছিড়ে মেঝেতে পড়ে যান তিনি। গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে আমিনাকে উদ্ধার করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে জানান রেজাউল করিম।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমিনাকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুন্নবী।
জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ব্যাপারে কোন মামলা হয়নি।

