শফিকুল ইসলাম, রৌমারী: ভিজিডি, ভিজিএফ, গর্ভকালিন, প্রতিবন্ধি, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, শিক্ষার্থী ভাতা, ক্যান্সার আক্রান্ত ভাতা, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের তালিকা, কৃষি উপকরণ সহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধাগুলো সুষ্ঠভাবে বন্টন করা হলে বদলে যেতে পারে দরিদ্রতা।
![]() |
| সরকারি বিভিন্ন সুবিধাগুলো সুষ্ঠ বন্টন হলে মুছতে পারে দরিদ্রতা। ছবি: এআই |
কিন্তু বছরের পর বছর জন প্রতিনিধিরা এসব সুবিধাগুলো তাদের নিজের মতো করে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও নির্বাচনী কর্মীদেরকে প্রধান্য দিতো তারা। ফলে নিয়ম অনুযায়ী যেসব পরিবার এই সুবিধাগুলো পাওয়ার কথা তারা পায় না। শুধু চতুর পাশে হাহাকার ছাড়া কিছু চোখে পড়ে না। পাশাপাশি এসব সরকারি সুবিধাগুলো বরাদ্দ হলেই যেনো জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিকনেতাদের ঈদের আনন্দ শুরু হয়।
এর পাশে বদনামও যুক্ত হয়। অধিকাংশ পরিবার অর্থের বিনিময় এই সুবিধাগুলো পায়। যা সমাজের ও রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্ক। এই রেওয়াজগুলো দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। এবারই সুযোগ এসেছে এসব দূর্নীতি ও অনিয়ম থেকে মুক্ত করা। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের থাকতে হবে সুস্থ মনমানষিকতা ও ধৈয্য। তাহলে গ্রাম ও সমাজ পরিবর্তন হতে পারে। মুছতে পারে দরিদ্রতা। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, এখন দরিদ্রতা পরিবর্তনের পালা। তাই নবনির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্য মো: মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাককে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি সুবিধাগুলা উপজেলা ভিত্তিক বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথে ইউনিয়ন ও ওযার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে বন্টন করতে হবে। পাশাপাশি গ্রামের সুধিজনদের মুল্যায়ন করলে স্বচ্ছতার মধ্যে বন্টন হতে পারে। উপজেলা প্রশাসনের অধিনে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কাথা সেলাই, নারীদের জামা কাপড় তৈরি, মৎস চাষ, হাঁস-মুরগী ও গবাদিপশু, জমিতে ফসল উৎপাদন সহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও দরিদ্র পরিবারগুলো নামের তালিকায় ওঠেনা। প্রতিবছরেই একই ব্যক্তিকে তালিকায় নাম রাখা হয়। যার কারণে দরিদ্ররা দরিদ্রই থেকে যাচ্ছে। অপর দিকে এ উপজেলায় টেকসই উন্নয়নকে বাধা সৃষ্টি করছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্তারা। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে রাস্তা, ব্রীজ-কালভার্ড, গাইড ওয়াল, বাউন্ডারি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, ঈদ গাঁ মাঠ, কবরস্থান মেরামত ও সরকারি ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়। দীর্ঘদিন থেকে যে সমস্যাটি রয়েছে তা হচ্ছে ঠিকাদারী বেঁচাকেনা। লটারির মাধ্যমে টেন্ডার অপেন করলেই দেখা যায় দেশের বিভিন্ন জেলার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ওঠে। তারা স্থানীয় না হওয়ায় অর্থের বিনিময়ে সেই কাজ বিক্রি করে দেয়। যারা ওই কাজ ক্রয় করেন তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজগুলো করেন। ফলে ১/২ বছরের মধ্যে সেই কাজের ধ্বংস নামে। তাছাড়ও কাজের মেয়াদের চেয়ে কয়েক বছর সময় লাগায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ফলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয় না। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বা উন্নয়ন করতে হলে কাজের তদারকির স্বচ্ছতা আনতে হবে। তাহলেই উন্নয়ন সম্ভব। বর্তমানে নদী ভাঙ্গন একটি বড় সমস্যা। নদীর চর থেকে মাটি কাটা ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীভাঙ্গনের মুল কারন। প্রতিবছর শতশত পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। তাদের পূনর্বাসনের জন্য সরকার নগদ টাকা, ঢেউ টিন, ত্রিপাল বরাদ্দ দিলেও স্বচ্ছতার অভাবে প্রকৃত অসহায় পরিবারগুলোর নাম তালিকায় ওঠে না। বালু উত্তোলন বন্ধ করলে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা সম্ভব। দূর্নীতি ও অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন থেকে বালিয়ামারী বর্ডার হাটটি বন্ধ রয়েছে। স্বচ্ছতা না থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্তর্দন্তই হলো মুল কারণ। এতে শতশত ব্যবসায়ী লোকসানের ঘানি টানছে এবং শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তাই সমস্যাটি দ্রæত নিরসন করা জরুরী। চর নতুনবন্দর স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানী অব্যাহত রয়েছে। সেখানেও ব্যবসায়ী, সিএনএফ, আমদানী-রপ্তানী কারক এ্যাসোসিয়েশন সংগঠনকে দিতে হচ্ছে চাঁদা। এই চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে ভারত থেকে পাথর আমদানী বন্ধ থাকে। এসব অনিয়মের কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা কাস্টমস কর্মকর্তাগণ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এসমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী বাসি এবার নির্বাচেন বাংলাদেশ জামায়াতেই ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো: মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক (দাড়িপাল্লা) প্রতীকে বিপুল সংখ্যক ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এলাকাবাসির দাবী তিনিই পারবেন সমস্ত অপকর্ম, দূনীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি রোধ করতে। তাই আগামীতে লক্ষ্যস্থানে পৌছাতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া। তবেই ২৮, কুড়িগ্রাম-৪ আসন হবে উন্নয়নের ঘাঁটি।
সূত্র: /সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
রৌমারী- নিয়ে আরও পড়ুন

রৌমারীতে ৩১ হাজার ৬৯২ টি পরিবার ভিজিএফ সহায়তা থেকে বঞ্চিত

রৌমারীতে ৪৫ টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

রৌমারীতে ভ্রাম্যমান আদালতে চার দোকানে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচনী যুদ্ধে বড় ভাইকে হারিয়ে ছোট ভাইয়ের জয়

রৌমারীতে ২৭ শিক্ষার্থীর ফরমপূরণ হয়নি, ভবিষ্যত অনিশ্চিত


খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।