![]() |
| মেলান্দহ রিপোর্টার্স ইউনিটির ১৩ বছরে পদার্পণ, ৪৪ গুণী ও প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা |
মেলান্দহ রিপোর্টার্স ইউনিটির ১৩ বছরে পদার্পণ, ৪৪ গুণী ও প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা
জমকালো আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে জামালপুরের মেলান্দহ রিপোর্টার্স ইউনিটির (এমআরইউ) এক যুগ পূর্তি ও ১৩ বছরে পদার্পণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা এবং সমাজে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪৪ জন বিশিষ্ট গুণী ব্যক্তিত্ব ও মানবিক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
গত বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল চারটায় মেলান্দহ উপজেলা প্রশাসন ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মেলান্দহ রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা শাহ জামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলহাজ্ব কারি হামিদুল হক, একাত্তরের গেরিলা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান এবং মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল কবির।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আবুল কাশেম আকাশ, সানন্দবাড়ী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চারণ সাংবাদিক আব্দুস সালাম শিকদার, কবি ও পর্বতারোহী ডা. ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল, দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাহী প্রধান কহিনুর ইসলাম, বকুলতলা মানবিক সোসাইটির চেয়ারম্যান হেলাল আকন্দ, কালচারাল ইউনিটির সভাপতি বাউল শিল্পী বিপ্লব মন্ডল, স্বরকলার সম্পাদক এ কে এম জাকিরুল হক মিন্টু এবং জালাল উদ্দিন কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি আব্দুল হাকিমসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে মেলান্দহের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের জন্য জীবিত ও মরণোত্তর ৪৪টি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখযোগ্য সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন:
ভাষা ও স্বাধীনতা সংগ্রাম (মরণোত্তর): আবদুর রহমান সিদ্দিকী, তাসির মোক্তার, আলী আসাদ।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সংগঠন (মরণোত্তর): ডা. নূরুল ইসলাম।
মুক্তিযুদ্ধ ও বীরত্ব: কমান্ডার কারি হামিদুল হক ও গেরিলা আবুল হোসেন।
সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা: মেলান্দহের প্রথম সংবাদপত্রের সম্পাদক-প্রকাশক আব্দুল হামিদ কবিরত্ন (মরণোত্তর) ও চারণ সাংবাদিক আব্দুস সালাম শিকদার।
শিক্ষা ও বিজ্ঞান: বুয়েটের খ্যাতনামা কম্পিউটার ও সফটওয়্যার বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মাহফুজুল ইসলাম, উমির উদ্দিন তালুকদার (মরণোত্তর), মোহন তালুকদার এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেলান্দহ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি: ছড়াকার আশরাফুল মান্নান (মরণোত্তর), বাচিক শিল্পী এ কে এম জাকিরুল হক মিন্টু, কবি শেখ ফজল, বেতার-বিটিভির কণ্ঠশিল্পী শেখ আবু তালেব, বাউল বিপ্লব মন্ডল ও চিশতী রহমতুল্লাহ সাফিন মন্ডল।
অপরাধ ও মাদক দমন: বিশেষ অবদানের জন্য মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুর রহমান।
ব্যতিক্রমী মানবসেবা: একক স্বেচ্ছাশ্রমে টুপকারচর থেকে ৪নং চর পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করা দিনমজুর আব্দুল জলিল।
মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠান: দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি, আপউস, জালাল উদ্দিন ট্রাস্ট, মেলান্দহ ফাউন্ডেশন, বকুলতলা মানবিক সোসাইটি, মুক্ত স্কাউট, জাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি ও ব্লাড ব্যাংক ‘শাকিল রক্তদান’।
চারুকলা প্রকল্প পৃষ্ঠপোষকতা: এমআরইউ’র বিনামূল্যে মাসব্যাপী চারুকলা প্রশিক্ষণ প্রকল্পের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, পৃষ্ঠপোষক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং প্রশিক্ষক হিসেবে আবুল কাশেম আকাশ, ডা. ধ্রুবজ্যোতি ঘোষ মুকুল, আব্দুর রউফ হীরা (মরণোত্তর), গোলাম ছরোয়ার রিপন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও জিন্নাতুল আরা বলেন, “মেলান্দহ রিপোর্টার্স ইউনিটি গত ১২ বছর ধরে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি চারুকলা প্রশিক্ষণ ও গুণিজন সংবর্ধনার মতো যেসব সামাজিক ও মানবিক কাজ করে আসছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে দিনমজুর আব্দুল জলিলের মতো প্রচারবিমুখ গুণীদের খুঁজে বের করে সম্মানিত করার এই উদ্যোগ অনন্য।” আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।