![]() |
| মেলান্দহে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ ছাড়লেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান |
মেলান্দহে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ ছাড়লেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ৫ নম্বর নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকির আবু বকর সিদ্দিক দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও পুরোপুরি ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আদিপৈত এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক এই শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদসহ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি ৫ নম্বর নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ১/১১-এর সময় অতিরিক্ত ৪ বছরসহ তিনি টানা ৯ বছর ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়ার হাত থেকে তিনি এই স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছিলেন।
আওয়ামী লীগে যোগদানের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ফকির আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তীব্র রাজনৈতিক চাপ, নানামুখী হয়রানি এবং মামলা-হামলা থেকে আত্মরক্ষার্থে ২০১৯ সালে আমি বিএনপি ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে আমাকে মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আমি আত্মগোপনে ছিলাম। বর্তমানে আমার বয়স হয়েছে, সেই সাথে আমি চরম শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি। মূলত শারীরিক অসুস্থতা এবং একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে আজ আমি আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদসহ দলটির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে সাবেক এই চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে ঘোষণা করেন, এখন থেকে তিনি সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত থাকবেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। জীবনের বাকিটা সময় তিনি কেবল এলাকার সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।