![]() |
| মেলান্দহে জলাবদ্ধতায় ৩ শতাধিক একর ফসলের ক্ষতি, বিপাকে শতাধিক কৃষক |
মেলান্দহে জলাবদ্ধতায় ৩ শতাধিক একর ফসলের ক্ষতি, বিপাকে শতাধিক কৃষক
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হওয়া কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩০০ একর জমির রোপা আমনের বীজতলা, আগাম জাতের ধান ও পাটক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার ১১ নম্বর শ্যামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ‘চর মাইটে বিল’ এলাকার অন্তত তিন শতাধিক কৃষক।
স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষক নূর হোসেন, আকবর আলীসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, চর মাইটে বিলটি এই এলাকার কৃষকদের জীবন-জীবিকা ও ফসল উৎপাদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বর্ষাকালে বিলের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী নিজ অর্থায়নে ভাটির দিকে পাইপ বসিয়ে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই পানি নিষ্কাশনের মুখে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বসতবাড়ি গড়ে তোলায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
ফলে সামান্য বৃষ্টি ও বর্ষার পানিতে পুরো বিলজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে কৃষকের কষ্টের আগাম জাতের ধান, পাটের জমি ও নতুন রোপণের জন্য তৈরি করা আমনের বীজতলা। এতে চলতি মৌসুমে বিলটি থেকে কোনো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সুরুজ্জামান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) শাহজাহান আলী বলেন, “কৃত্রিম এই জলাবদ্ধতার কারণে শত শত কৃষক পরিবার আজ নিঃস্ব হওয়ার পথে। দ্রুত অবরুদ্ধ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে কৃষকেরা চরম খাদ্য ও আর্থিক সংকটে পড়বেন। আমরা ফসল রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছি।”
পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে অবৈধভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করার বিষয়টি আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়। যা সমাধান করা উপজেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।