![]() |
| বামে চিকিৎসাধীন শিক্ষক আরিফুল ইসলাম, ডানে অভিযুক্ত ৬ জন |
জুয়ার প্রতিবাদ করায় লালমনিরহাটে শিক্ষকের প্রাণ গেল, মূল অভিযুক্ত কারাগারে থাকলেও বাকিরা পলাতক
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার প্রতিবাদ এবং সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করায় ক্যাসিনো চক্রের নির্মম হামলার শিকার শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
দীর্ঘ ১৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মৃত্যুর পর ঘটনার মোড় ঘুরেছে। আদিতমারী থানা-পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি (মামলা নং-৩/১৭৯, তারিখ: ০২ আগস্ট ২০২৬) আদালতে আবেদনের মাধ্যমে দ্রুত ৩০২ ধারায় (হত্যা মামলা) রূপান্তর করা হবে।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া (সিংগীমারী) গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো: রহিদুল ইসলাম ও তার দুই ছেলে মেহেদী হাসান ও মোমিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছিল। সচেতন নাগরিক ও শিক্ষক হিসেবে আরিফুল ইসলাম এই সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি অভিযুক্তদের জুয়া খেলা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেন এবং কথা না শুনলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর হুঁশিয়ারি দেন।
এরই জেরে গত ২ আগস্ট আসামিরা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক আরিফুল ইসলামের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালায় এবং তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
ঘটনার পর আদিতমারী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত ১৩ আগস্ট ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে প্রধান আসামি মো: রহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বর্তমানে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার ১০ জন আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত গত ১৩ আগস্ট ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে আটক আছেন। দ্বিতীয় নম্বর আসামি এখনো পলাতক। বাকি আটজন আসামি গত ৩ আগস্ট আদালত থেকে জামিন লাভ করেন, যা নিয়ে অভিযোগকারী পক্ষ প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আদালতের জিআরও যথাযথভাবে তদন্ত না করেই এমন ধারা উল্লেখ করেছিলেন যা জামিনযোগ্য, যার ফলে আদালত জামিন মঞ্জুর করে। এছাড়া জামিন শুনানির সময় বাদীপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি গত ৩ আগস্টের শুনানির সময় দায়িত্বে ছিলেন না এবং আসামিপক্ষের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের পর গত ৬ আগস্ট থেকে মামলা পরিচালনা শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ওয়ারেন্ট জারির আগেই আসামিরা স্থানীয় একজন বিএনপি নেতার সহযোগিতায় আদালতের মাধ্যমে জামিন নিয়েছিলেন। এই অভিযোগ এখনো স্বতন্ত্রভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আরিফুল ইসলামের মৃত্যুর পর জামিনে থাকা আটজন আসামিই অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। গতকাল শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জামিনে থাকা আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা এলাকা ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে পলাতক রয়েছে।
মামলাটি আজ ২৩ আগস্ট আদালতে আবেদনের মাধ্যমে ৩০২ ধারায় রূপান্তরের কথা জানিয়েছে আদিতমারী থানা পুলিশ। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।