![]() |
| ফ্যাসিবাদবিরোধী হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: প্রধানমন্ত্রী |
ফ্যাসিবাদবিরোধী হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: প্রধানমন্ত্রী
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন, বিগত ১৭ বছর এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে যাঁরা শহীদ ও গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের স্মরণে নিজ নিজ এলাকায় একটি করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নব্য তৈরি এই জাদুঘরের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির নয়, এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলনা করে তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মানুষ যেমন ভোলেনি, একইভাবে ২০২৪ সালের শহীদদেরও জনগণ কোনো দিন ভুলবে না।”
দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক বিতর্ক ও ইস্যু তৈরি করে নিজেদের অজান্তেই পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কি না, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।”
বিগত সরকারের দেড় দশকের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজার হাজার মানুষ গুম ও অপহরণের শিকার হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা মামলায় নির্যাতন সহ্য করেছেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে নারী ও শিশুসহ হাজারো ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের বর্বরতা সভ্য সমাজে বিরল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাদুঘরে উপস্থাপিত তথ্য অবশ্যই নিরপেক্ষ ও সত্য হতে হবে। সত্য ইতিহাসই একটি জাতিকে এগিয়ে নেয়, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ইতিহাসকে দুর্বল করে দেয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের জানার সুবিধার্থে তথ্যসমূহ ইংরেজিবিন্যাসে রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।
আহতদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই যোদ্ধাদের দেশে বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারেরও বেশি আহত যোদ্ধাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনে বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গণভোট ও সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে।
সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ আর কোনো দিন কোনো দেশের তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।”
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।