![]() |
| শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার দেজিয়নে একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সময় কালো ধোঁয়া উঠছে। ছবি: ইয়োনহাপ/এপি |
দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ির যন্ত্রাংশ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু, আহত বহু
দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর ডেজনে অবস্থিত একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৫৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নিখোঁজ রয়েছেন আরও তিন জন কর্মী। আজ শনিবার (২১ মার্চ) ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে কারখানায় আগুন লাগে। সে সময় সেখানে প্রায় ১৭০ জন কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় মজুত থাকা রাসায়নিক উপাদান ‘সোডিয়াম’ এবং ভবনের ধসের ঝুঁকির কারণে শুরুতে দমকল কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার আগে তাঁরা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।
শনিবার বিকেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারীরা কারখানার ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করতে শুরু করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত ২৫ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৩৪ জন সামান্য আহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ থাকা তিন জনের সন্ধানে ড্রোন ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এক জরুরি বিবৃতিতে উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের জনবল ও সরঞ্জাম কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দেশের সকল শিল্প কারখানায় শ্রমিকদের উন্নত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কর্মস্থলে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে হোয়াসংয়ের একটি লিথিয়াম ব্যাটারি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন মারা গিয়েছিলেন, যা দেশটির অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।