![]() |
| জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজন ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা |
জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজন ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা
জামালপুর শহরের সরদারপাড়া এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি ‘এম. এ রশীদ হাসপাতাল’-এ ভুল চিকিৎসায় জেরিন আক্তার (২৫) নামের এক প্রসূতি/রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অস্ত্রোপচারের সময় খাদ্যনালি কেটে ফেলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এদিকে এই ভুল চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে এসে হাসপাতাল কর্মীদের হামলায় মৃতের স্বজনেরা আহত হয়েছেন। এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে শহরের সরদারপাড়ার এম. এ রশীদ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
নিহত জেরিন আক্তারের স্বামী দেলোয়ার হোসেন (৩৫) অভিযোগ করে জানান, গত ৯ জুলাই পেটে ওভারিয়ান সিস্টের তীব্র ব্যথা নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসক ডা. হারুন অর রশিদের তত্ত্বাবধানে জরুরিভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দিন রোগী কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয় দিন থেকে পেট ফুলে তীব্র অসুস্থতা দেখা দেয়।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, “স্ত্রীর অবস্থার অবনতি দেখে আমরা দ্রুত ঢাকা নিতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা অযুহাতে সাত দিন আটকে রাখে। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই তাঁকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান, জামালপুরে অস্ত্রোপচারের সময় জেরিনের খাদ্যনালি কেটে ফেলা হয়েছিল, যা থেকে পেটের ভেতরে মারাত্মক সংক্রমণ (ইনফেকশন) ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হলেও ২৩ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুটি হাসপাতাল একই মালিকানাধীন হওয়ায় ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাঁকে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে স্ত্রীকে দাফন শেষে আজ এম. এ রশীদ হাসপাতালে জবাবদিহি ও অভিযোগ জানাতে যান। এ সময় হাসপাতালের স্টাফরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর ও স্বজনদের ওপর হামলা চালায়।
এদিকে স্বজনদের ওপর হামলার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকেরা তথ্য সংগ্রহ করতে হাসপাতালে গেলে তাঁদের ওপরও চড়াও হয় কর্মচারীরা। হামলার শিকার একুশে টেলিভিশনের জামালপুর প্রতিনিধি খন্দকার রাজু আহমেদ ফুয়াদ বলেন, “রোগীর স্বজনদের বক্তব্য নেওয়ার সময় হাসপাতালের কর্মচারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। পরে আমরা এ বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরও চড়াও হন ও মারধর করেন।”
ঘটনার পর এ বিষয়ে এম. এ রশীদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে গেলে তারা সাংবাদিকদের দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখে। পরবর্তীতে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য না দিয়ে গা-ঢাকা দেন।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।