![]() |
| জামালপুরে প্রাথমিকে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ শিক্ষকের আমরণ অনশন |
জামালপুরে প্রাথমিকে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ শিক্ষকের আমরণ অনশন
জামালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন প্রার্থী দ্রুত নিয়োগপত্রের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। অনশনকারীদের অবস্থানের কারণে শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক সার্বিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা নেমে আসে।
অনশনরত প্রার্থীরা জানান, জামালপুর জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৩৬ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর ১ জন—সবমিলিয়ে মোট ৮৫ জনকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। তবে কোনো আইনি জটিলতা বা মামলা না থাকা সত্ত্বেও অবশিষ্ট ৫১ জন প্রার্থীকে অজ্ঞাত কারণে নিয়োগ বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সকল বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁদের নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে। আজকের মধ্যে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র না দেওয়া হলে অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শরিফপাড়া গ্রামের শামীম ইয়াসমীন সুমি কান্নাকণ্ঠে বলেন, “আমার পরিবারে কোনো উপার্জনক্ষম মানুষ নেই। বাবা বয়স্ক ও অসুস্থ, ছোট ভাই বেকার এবং ছোট বোন মেডিকেলে পড়াশোনা করছে। দুগ্ধপোষ্য ছোট সন্তানকে ঘরে রেখে চার-পাঁচ দিন ধরে দৌড়াদৌড়ি করছি। আমার বয়সও শেষ পর্যায়ে। এখন নিয়োগ না পেলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।”
একইভাবে হতাশা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুনতাজিল বিল্লাহ জানান, দীর্ঘ আট মাস ধরে তাঁদের এই প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়া কেন তাঁদের বাদ রাখা হলো, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারছে না প্রশাসন। অন্যদিকে সদর উপজেলার সোহেল আলম বলেন, ফৌজদারি মামলা বা কাগজপত্র সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকার পরও বাকিদের নিয়োগ দিয়ে ৫১ জনকে আটকে রাখা চরম বৈষম্যমূলক।
এদিকে প্রার্থীরা অনশনে বসলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মোহাম্মদ আলী আহসান সহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি এবং তাঁদের কাজের জন্যই মন্ত্রণালয়ে এসেছি। কার কী আইনি বা প্রশাসনিক ধারায় সমস্যা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে এখনো বোঝা যাচ্ছে না। বিষয়টির সমাধানের লক্ষ্যে বিমান মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করছি। প্রাক-প্রার্থীদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে, আশা করছি দ্রুত ভালো কোনো সমাধান আসবে।”







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।