![]() |
| রৌমারীতে গাভিন গরু জবাই করে মাংস বিক্রি, পুকুর থেকে মৃত বাছুর উদ্ধার।। ছবি : Gemini |
রৌমারীতে গাভিন গরু জবাই করে মাংস বিক্রি, পুকুর থেকে মৃত বাছুর উদ্ধার
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইকান্দি বাজারে গর্ভবতী (গাভিন) গরু জবাই করে বাজারে মাংস বিক্রির একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান মিজানসহ একাধিক মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে গর্ভের মৃত বাছুরটি বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হলেও তা স্থানীয়দের হাতে উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে। বড়াইকান্দি বাজারের ডিসি রাস্তা সংলগ্ন একটি পুকুরে বস্তাবন্দী বাছুর ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তা উদ্ধার করলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অসাধু কসাই মিজানুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা গোপনে গর্ভবতী গাভিন গরু জবাই করেন। এরপর গর্ভের বাছুরটি মাংসের দোকানঘরের পেছনের জানালা দিয়ে পুকুরে ফেলে দিয়ে স্বাভাবিক মাংস হিসেবে বাজারে, বিভিন্ন হোটেলে ও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে পুকুরে বাছুরের মৃতদেহ ভেসে উঠলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও হৈচৈ শুরু হয়। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে অভিযুক্ত কসাইরা স্থান ত্যাগ করেন।
![]() |
| রৌমারীতে গাভিন গরু জবাই করে বিক্রি'র অভিযোগ মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে, মৃত বাছুর উদ্ধার |
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বড়াইকান্দি বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ, রোগাক্রান্ত ও খাবার অনুপযোগী গরু জবাই করে বিক্রি করা হচ্ছে। বাবুল মিয়া ও রফিকুল ইসলামসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, "উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মজিদা খাতুন নিয়মিত ঘুরে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না।" পাশাপাশি অভিযোগ রয়েছে, প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে নিয়ম অনুযায়ী গরু পরীক্ষা না করে প্রশিক্ষণবিহীন এক ব্যক্তিকে দিয়ে ফি বা উৎকোচের বিনিময়ে জবাইয়ের ভুয়া প্রত্যয়ন নেওয়া হতো।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গেলেও বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলে সচেতন মহল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাংস বিক্রেতা মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সহকারী আইয়ুব আলী জানান, তিনি নিয়ম মেনেই পরীক্ষা পরিচালনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রুবেল হোসাইন জানান, "রোগাক্রান্ত বা গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোতে মাংস বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নোটিশ জারি করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলী জানান, লিখিত তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হাসান বলেন, "বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"








খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।