![]() |
| নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাদা পেলেন সারের ডিলারশিপ |
নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া বকশীগঞ্জের বিএনপি নেতা পেলেন সারের ডিলারশিপ
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিগত ২০২৪ সালের বহুল বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাওয়া বিএনপির এক স্থানীয় নেতা সারের সরকারি ডিলারশিপ পেয়েছেন।
(ads1)
উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাদার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স শান্ত ট্রেডার্স'কে বিসিআইসি সারের ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বকশীগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের সারের ডিলারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, মেরুরচর ইউনিয়নের নতুন ডিলার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মেসার্স শান্ত ট্রেডার্স, যার স্বত্বাধিকারী মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাদা।
স্থানীয় দলীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ডিও লেটার ও নৌকা মার্কায় ভোট চান সাইফুল ইসলাম সাদা। সে সময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অপরাধে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁকে মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। অথচ স্বৈরাচার পতনের পর বিএনপির পদ ব্যবহার করে সেই বিতর্কিত নেতাই কীভাবে সারের মতো স্পর্শকাতর সরকারি ডিলারশিপ পান, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ের ত্যাগী কর্মীদের মাঝে মারাত্মক হতাশা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
- ইসলামপুরে রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রাণবন্ত হচ্ছে দুর্গা প্রতিমা, প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে
- জামালপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ৯৪৩ কর্মী নিয়োগ, বাড়ি বাড়ি যাবেন তারা
- ইসলামপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
- বকশীগঞ্জে নিজ ঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- মেনোপোজ বা ঋতুবন্ধ মানেই কি শারীরিক ইচ্ছার শেষ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করা ব্যক্তিরা যদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নেন, তবে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীরা মূল্যায়ন পাবেন কীভাবে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাদা নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, "নৌকায় ভোট চাওয়ার অপরাধে আমাকে সে সময় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে হাইকমান্ড ও জেলা-উপজেলা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আমাকে স্বপদে বহাল করা হয়। মেরুরচর ইউনিয়ন থেকে ডিলারশিপের জন্য ১৪ জন আবেদন করেছিলেন, যার মধ্য থেকে আমাকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূলত বিএনপি দলীয় রাজনীতির কারণেই আমি এই ডিলারশিপ পেয়েছি।"
বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "নৌকার পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চাওয়ার অপরাধেই সাইফুল ইসলাম সাদাকে সে সময় দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁর ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়। তবে তিনি কীভাবে সারের সরকারি ডিলারশিপ বাগিয়ে নিলেন, সেই প্রক্রিয়ার বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।"
(ads2)
ডিলার নিয়োগের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সারের ডিলার নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, "প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সারের ডিলারশিপের জন্য একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আবেদন জমা দিয়েছিল। সেখান থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে প্রতি ইউনিয়ন থেকে ৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জেলা সার ও বীজ কমিটি ওই ৩জনের নাম ও সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠালে, কৃষি মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে এদের মধ্যে একজনকে ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।