![]() |
| ময়মনসিংহে বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ ৭ জনের অকাল মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ জামালপুরের রানাগাছা ইউনিয়নের স্বজন ও গ্রামবাসীদের আহাজারি। |
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের বাড়ি জামালপুরে, পুরো জেলায় শোকের মাতম
ময়মনসিংহে ঘাতক ‘রাজীব পরিবহন’-এর বাসের চাপায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনেরই পরিচয় পাওয়া গেছে। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত এই ৭ ব্যক্তির সবার বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলায়।
নিহতদের মধ্যে সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের ৫ জন এবং শরীফপুর ইউনিয়নের ২ জন বাসিন্দা রয়েছেন। এর মধ্যে একই পরিবারের এক শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ রয়েছেন ৪ জন। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর থেকে নিহতের গ্রামে ও পরিবারে চলছে হৃদয়বিদারক কান্না ও শোকের মাতম।
নিহতদের তালিকা অনুযায়ী জানা গেছে— রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের পেশায় রাজমিস্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তাঁর বৃদ্ধা মা রাশিদা বেগম, গর্ভবতী মেয়ে মর্জিনা বেগম এবং মর্জিনার কোলের শিশুসন্তান মিনাল। ওই একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী। অন্যদিকে, শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামের আক্রাম আলী এবং তাঁর স্ত্রী মমতা বেগম।
আরও পড়ুন:
- ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
- বকশীগঞ্জে ‘ভুয়া’ দাবি করে Guard of honor-এ বাধা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন
- বকশীগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড
- ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার মেগা সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- সর্বশক্তি দিয়ে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পেশার তাগিদে রাজমিস্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন লেবু তাঁর স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। মা ও বিবাহিত মেয়েকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মা রাশিদা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তাঁরা প্রথমে ময়মনসিংহে যান, সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে ঘাতক রাজীব পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস তাঁদের বহনকারী যানটিকে সজোরে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁরাসহ ৭ জন মারা যান।
একই পরিবারের চার সদস্যকে এভাবে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনেরা। এ ঘটনায় ঘাতক বাসের চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং বেপরোয়া হিসেবে পরিচিত 'রাজীব পরিবহন'-এর রুট পারমিট বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন নিহতের আত্মীয়স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
নিহত মোফাজ্জল হোসেনের ছোট ভাই মোবারক হোসেন জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে শুক্রবার রাতেই লাশগুলো জামালপুরের উদ্দেশ্যে আনা হবে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, বেপরোয়া চলাচলের কারণে কুখ্যাত রাজীব পরিবহনের বাসের ধাক্কায় ও চাপায় গত ২০ মাসে অন্তত ১৮ জন নিরীহ প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।




খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।