![]() |
| রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
(ads1)
রৌমারীতে মাদক মামলার আসামি হয়েও সরকারি চাকরিতে বহাল সিএইচসিপি: প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার যোগসাজশে মাদক মামলার আসামি হয়েও চর বোয়ালমারী কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আবু মোহায়েম খান চাকরিতে বহাল রয়েছেন। মাদক মামলায় দুই দফায় জেল খাটার পরেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকরির আড়ালে অভিযুক্ত আবু মোহায়েম খান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। গত ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রৌমারী থানার পুলিশ নিজ এলাকা থেকে তাঁকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করে।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রৌমারী থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নম্বর: ৪০/৫৮, তারিখ: ২৭ মার্চ ২০২৪) দায়ের করে এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি সব নিয়ম লঙ্ঘন করে দিব্যি নিয়মিত অফিস করে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন:
- জামালপুরে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক: ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ১
- জামালপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ ফেল ৪ প্রতিষ্ঠানে: ২২ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য
- রৌমারীতে বাড়িতে কেউ না থাকায় বৃদ্ধ মহিলার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
- বকশীগঞ্জে গভীর রাতে দশানী নদীতে ইউএনওর অভিযান, ড্রেজার ও পাইপ ধ্বংস
- ঢাকায় শুরু হলো দেশের বড় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বিটিটিএফ ২০২৬
রৌমারী থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া নিজ এলাকা থেকে ১২ পিস ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হন আবু মোহায়েম খান (৩৮)। মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। পুলিশের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি সরকারি চাকরির আড়ালে ওই এলাকায় মাদক সাপ্লাই ও সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, ওই কমিউনিটি ক্লিনিকের ভেতরেই তিনি মাদক সেবন ও কারবার চালিয়ে যান।
এর আগে ২০১৯ সালের দিকেও আবু মোহায়েম খান ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেল খেটেছিলেন। ওই সময় মামলা চলাকালীন তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জামিন ও নিঃশর্ত মুক্তির পর তিনি পুনরায় চাকরিতে বহাল হন এবং ৫ বছর পর আবারও ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও কারাবাস প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, প্রজাতন্ত্রের কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে হাজতবাস করলে আদালত থেকে চূড়ান্ত রায়ে খালাস না পাওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত থাকার কথা—এটাই সরকারি চাকরির বিধান। কিন্তু মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে চাকরিতে বহাল রয়েছেন, তা বোধগম্য নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বিষয়টি গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভাতেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সিএইচসিপি আবু মোহায়েম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুস সামাদ জানান, এ ব্যাপারে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোবিজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
(ads2)
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলী জানান, মাদকসহ মোহায়েম খান নামের এক ব্যক্তি আটক হয়েছিল এবং তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই; তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।